অপেক্ষমাণ পৃষ্টা ৪-৫

Leave a comment

শ্রাবণ পিছু হেঁটে ঘুরে পা বাড়ালে কোকিলা কুহু ডাকতে শুরু করল।
‘বিদায়বেলা কু ডাক শোনেছি, এ যাত্রা শুভ হবে না। সরসী! আমি যাচ্ছি।’ শ্রাবণ ডেকে বলল।
‘শ্রাবণ! সুখের দোহাই দিচ্ছি।’ সরসী গলার জোরে বলল।
শ্রাবণ আড়কালার মত হাঁটতে থাকলে, সরসী মনের ঝাল ঝাড়ার জন্য দু হাত মুষ্টবদ্ধ করে কিড়িমিড়ি খেয়ে পা দিয়ে মাটিতে মৃদু আঘাত করে বলল, ‘আঁধলা তুমি আধলাই থাকবে উদলা হয়ে দামালি না দিতে পারবে। লজ্জা লজ্জা কি লজ্জা বলে এখন গলা ফাটিয়ে চেল্লাও রে নেলাভোলা।’
‘জানি আমি হাবাগোবা কিন্তু তুমি তো বুদ্ধিরঢেঁকি ল্যালা।’ বলে শ্রাবণ শরীর কাঁপিয়ে হেসে হাত ওঠিয়ে নাড়ল।
‘শ্রাবণ! আমাকে ফেলে যেয় না, বারবেলায় আমি সময় নির্ধারণ করতে পারব না।’ সরসী ইনিয়ে বিনিয়ে বলল।
‘লালটিক ঠিকঠাক থাকলে দেখা সুখেরবাসরে।’
‘তোমার অপেক্ষায় আমি অপেক্ষমাণ থাকব।’
‘জীবন মানে বেচে থাকা, সংগ্রাম নয় এবং জীবনের শেষ প্রান্তে মৃতু্য অপেক্ষমাণ। আমার কথা মনে রাখলে দিগন্তে পৌঁছে নতুনত্বে বিমোহিত হবে বিমোক্ষণ।’
‘সেচ্চায় ভুলপথে পথিক হলে জীবন অসমাপ্ত থাকবে। প্রিয়জনের অপেক্ষায় অপেক্ষমাণ হলে অতিষ্টতা মৃতু্য কামনা করায় এ তুমি ভালো জানো। ফিরে আসো সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে।’
শ্রাবণ আধকালার মত শোনেও না শোনার ভান করে হাঁটতে শুরু করে নিম্নসুের বলল, ‘আল্লা গো আমার দিকে থোড়া মেহের নজর রেখ। কালবেলায় কালোবিড়ালের ছায়ায় আজ আমি পাড়া মেরেছি।’
এমন সময় বিজলি চমকিয়ে বাজ ফাটল।
শ্রাবণ মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকিয় বিড়বিড় করে হাঁটতে থাকল।
এক ফোঁটা দুই ফোঁটা করে বৃষ্টি ঝরতে শুরু করল।
সরসী বিচলিত হয়ে মাথা নেড়ে নিম্নসুরে বলল, ‘এক হায়ন পর এসেছিল। কিন্তু কেন এসেছিল? রিক্ত হাতে চলেই বা গেল কেন? সে চাইলে আজ আমাকে সিক্ত করতে পারত।’
শ্রাবণ বাড়ির বাহিরে এসে পিছন ফিরে না থাকিেয় সদর দরজা বন্ধ করে ডানে বাঁয়ে তাকিয়ে ডানে হাঁটতে শুরু করল।
সদর দরজার দিকে অপলক দৃষ্টিতে অনেক্ষণ থাকিয়ে সরসী বুক ভরে শ্বাস টেন হাঁফ ছেড়ে চারপাশে তাকিয়ে ধীরে ধীরে হেঁটে বসার ঘরে প্রবেশ করল।
পরিচারিকা কাঁচের কাপে দুধ ছাড়া হাল্ক চা নিয়ে সর্তকতার সাথে প্রবেশ করল।
‘যা বাগান থেকে কাপ খাতা নিয়ে আয়। আর শোন। এই চা ফেলে কড়া আরেক কাপ চা বানিয়ে নিয়ে আয়। মন-মাথা ঝিম ধরেছে। এই চা’য় ঝিমুনি ছাড়বে না।’ বলে সরসী মাথা ঘুরিয়ে সদর দরজার দিকে তাকাল।
পরিচারিকা দ্রুত টেবিলে ট্রে রেখে প্রায় দৌড়ে কাপ এবং খাতা নিয়ে ফিরে সরসীর সামনে রেখে সোজা হয়ে দাঁড়াল।
সরসী ওর দিকে তাকিয়ে কপাল কুঁচকে বলল, ‘শ্রাবণ এসেছিল কেন?’
‘আমি জানি না বিবিজান।’ পরিচারিকা ভয়ে ভয়ে বলে মাথা নাড়ল।
‘আচ্ছা যা চা নিয়ে আয়। খুব কড়া করে বানাবি।’ বলে সরসী রাগকে আয়ত্তে রাখার জন্য ঘনঘন  শ্বাস টেনে হাঁফ ছাড়ল।
সরসীর হাবভাবে পরিচারিকা ভয়ত্রস্ত হয়ে দ্রুত চলে গেল।
সরসী খাতা হাতে নিল। শাড়ীর আঁচল দিয়ে মেঘজল মুছে খাতা খুলে মৃদুম্লান হেসে নিম্নসুরে বলল, ‘তোমার অপেক্ষায় অপেক্ষমাণ আমি এখন ছন্দের নন্দে নন্দিত হব।’
‘বিবিজান, আর কড়া বানালে বেশী তিতা হয়ে যাবে।’ পরিচারিকা কম্পিতকণ্ঠে বলল।
‘তুই জানলে কেমন করে?’ বলে সরসী মাথা তুলে ওর মুখের দিকে তাকাল।
‘আমি জানি না বিবিজান।’ পরিচারিকা ভয়ে ভয়ে বলল এবং ওর হাত কাঁপতে শুরু করল।
‘আমি তো তোকে মারধর করি না। আমার ভয়ে তুই এত ভয়ত্রস্ত কেন?’
‘আমি জানি না বিবিজান।’ পরিচারিকা অনুচ্চস্বরে বলে মাথা নাড়ল।
‘ফুস-মন্তর দিয়ে আমাকে ফুসলাতে পারবি? আমি আমার জীবন উপভোগ করতে চাই। বনফুলের সুবাসে আমি সুবাসিত হতে চাই। আকাশের নীলে আমি নীলিমা হতে চাই। রংধনুর সাত রঙ্গে আমি রিঙ্গিণী হতে চাই। রঙ্গী সে এখন লীলাখেলায় মত্ত। রঙঢঙ শিখে আমি ও হতে চাই ধিঙ্গি। আয় আমার পাশে বসে আমাকে উপদেশ দে। বার-বিলাসিনী হয়ে আমি অভিলাষী হতে চাই।’
‘ছিঃ বিবিজান। আপনি ফুলের মত পবিত্র। এসব বাজে কথা শোনলে সাহেবের মাথা গরম হয়ে যাবে।’
‘এক হায়ন পর এসেছিল তো।’ সরসী অধীরতায় বিরক্ত হয়ে বলল।
‘আপনি নিজেই তো বলেছিলেন, আপনিই ওনাকে ভোগবাসনাবিমুখ করেছেন।’
‘ত্যাগী পুরুষ হয়নি সে আমাকে ত্যাজ্য করে নিরানন্দ করেছে। নন্দের জন্য আমি এখন নগর বন্দরে ধন্যা দেব।’
‘আপনি অনুমতি দিলে গণিকা কয়েক নিয়ে আসতে পারি। তাদেরকে প্রশ্ন করতে পারবেন। বার নরে না এক বরে সত্য নারী সুখ-শান্তি?’
‘ওরে বাসরে বাস!’ বলে সরসী চোখ কপালে তুলল।
‘কি হয়েছে বিবিজান?’ পরিচারিকা ভয়ে ভয়ে বলল।
‘বার-দরিয়ায় ভেসে বার-দুয়ারির টুকনি না ভরে। বার-নারী দৈহিক সুখ দেয় বার-ফট্টাই নরে। তুই সব জানিস লো!’ বলে সরসী হেসে কুটিপাটি হল।
‘বিবিজান মৃতু্যকে ভয় করুন।’ পরিচারিকা কম্পিত কণ্ঠে বলল।
‘আল্লাহ কে না বলে মৃতু্যকে ভয় করতে বললে কেন?’ সরসী চিন্তিতস্বরে বলে বাহিরে তাকাল।

Awaiting

Leave a comment

অপেক্ষমাণ ©

মাঘের মেঘলা দুপুর। শীতের প্রকোপে গাছপালা ঝিম ধরেছে এবং নতুন বউর মত উর্ণা মেঘের আড়ালে সূর্য লুকিয়েছে। পাকাবাড়ির সামনে নয়নাবিরাম বাগান। বাড়ির মালিক নিশ্চয়ই বাগানবিলাসী। থোড়া জমিতে মনোমত সাজানু বাগানে তন্ময় হলে, দেখা যায় দিগন্ত থেকে সবুজ এসে মিশেছে ফোয়ারায়। চিরসবুজ লতা এবং শীতকালিন ফুলগাছের দিকে তাকালে মনে ভ্রমের সৃষ্টি হয়, এমন লাগে যেন ফুলপরীরা ভ্রমরীর সাথে আড়ি দিয়ে মধুচুরের সাথে মিতালিতে মত্ত। অভিনব ফুল এবং ফলে বাগানটা সুজ্জিত।
পলাশতলে চেয়ার টেবিল। বাতাস খাতার পাতা উল্টাচ্ছে। গরম চা থেকে ভাপ ওঠছে। আসে পাশে কেউ নেই।
এক জোড়া কউতর ভাবাবেগে বকবকম করে ভাব জমাতে চাইছে।
ফোয়ারার উত্তর পশ্চিম পাড়ে এক নারী দাঁড়িয়ে এবং সর্তকতার সাথে আলকুশী লতা থেকে ফুল তুলতে চাইছে। কাঁটায় আঘাত পেয়ে চট করে হাত সরিয়ে মুখে বড়ুআঙুল দিয়ে, মাথা তুলে কপাল কুঁচকে ডানে বাঁয়ে তাকালে, এক পরুষ শরীর কাঁপিয়ে হাসতে হাসতে বলল,
ও ভ্রমরী! তুমি কি আমাকে ভুলে গেলে?
আমি তো তোমাকে ভুলতে চাইনি,
তবুও তুমি চলে গিয়েছিলে,
একটিবারও পিছন ফিরে না তাকালে।
কেন এত নির্দয় হলে,
তোমার মনে তো তামার বিষ ছিল না,
তবে কেন মিছরির ছুরি দিয়ে মনে ঘাঁ দিয়েছিলে?

নারী গম্ভীরকণ্ঠে বলল, ‘সেই তুমি আজ আমাকে ভ্রমরী ডাকলে যে একদিন ভালোবেসে সরসী নাম উপহার দিয়েছিলে। আনন্দে আত্মহারা হয়ে আমি বলেছিলাম, সরসে শ্রাবণ ঝরবে বরষায় জলকেলি করব দুজন পঞ্চনদে আসবে জোয়ার আনন্দসলিলে।’
‘জানি সরসী তুমি মরুভূমি হয়ে গিয়েছ এবং আমিও শ্রাবণ হতে পারিনি। ভ্রমরী তুমি ভ্রমরী হয়েছ ইদানিং আমি বাসি পুরষফুল। আমার মাঝে এখন আমার মধু নেই। আমি পানসে হয়ে গিয়েছি।’
সরসী কপাল কুঁচ করে বলল, ‘হ্যাঁ আমি মরুভূমি হয়েছি এবং তোমার হৃদয়হিনতার প্রতিক এই পলাশগাছ।’
শ্রাবণ ঠোঁটবাঁকিয়ে বিদ্রুপ হেেস বলল,
সখি, মনে কত শখ ছিল;
ছিলো চোখে নবরঙ্গের স্বপ্ন,
সুখের দিগন্তে সুখি হব যেয়ে,
পথ চলছিলাম মনানন্দে, তাইরে নাইরে করে;
পবন আমাকে সুখের বর্তা দিচ্ছিল,
কখনো যাচ্ছিল গন্তব্যে,
কখনো ফিরে এসে বলছিল,
তাড়ে চল, সুখ তোর অপেক্ষায় অপেক্ষমাণ,
আমি উত্তেজিত হয়েছিলাম,
জোর কদমে হাঁটছিলাম,
কিন্তু মাঝ পথে কাল বৈশাখি এসেছিল,
আমাকে থামতে হয়েছিল থোড়াক্ষণ,
এক একটা দণ্ড হায়ন মনে হচ্ছিল যেন।

সরসী বেজার হয়ে শ্রাবণের মুখের দিকে তািকয়ে ধীরকণ্ঠে বলল, ‘আমি বুড়ি হয়ে গিেয়ছি কিন্তু তুমি এখনো সুপুরুষ। প্রতারক হয়ে তুমি আমাকে অভিশপ্ত করলে কেন, আমি তোমার কি ক্ষতি করেছিলাম?’
‘চিন্তার কারণ নেই, বয়সের ভারে সবাইকে বুড়া হতেই হয়। তবে কিছু নর-নারীর মন বুড়া হয় না, আর ওরা হল কবি। তোমার মন না দেহ বুড়া হয়েছে শোনি?’
সরসী আবেগপ্রবণ হয়ে বলল,
বন্ধু তোমার অপেক্ষায় অপেক্ষমাণ আমি যৌবনকে আঁচলে রেখেছি বেঁধে,
বন্ধু তোমার আশায় মনে পাষাণ বেঁধেছি বুক ভিজিয়েছিলাম বিরহে কেঁদে।
শ্রাবণ বিদ্রুপ হেেস বলল, ‘কেঁদ না পাষাণী তুমি কেঁদ না। তুমি কাঁদলে পলাশগাছটা মরে যাবে। পলাশ নুন পছন্দ করে না গো।’
‘হে প্রিয় পথিক! তুমি কেন পথ হারিয়েছিলে, তোমার অপেক্ষায় প্রহর গোনে আমি অপেক্ষমাণ। পলাশতলে বসে থাকি বিধায় পলাশ আমার সাথে ঠাট্টা করে। তুমি কেন অচেনা পথে হাঁটতে শুরু করেছিলে?’
এমন সময় একটা কোকিল বাগানের আশে পাশে উড়াউড়ি করছিল। টোনাটুনি লেম্বু গাছে বাসা বানিয়েছে। পাপিয়া মহুয়ার ডালে বাসা বানাচ্ছিল। তা দেখে শ্রাবণ দুডালিতে ঢিল ভরে কোকিলাকে নিশানায় আনলে সরসী মাথা নেড়ে কপালে আঘাত করে বলল, ‘তুমি এত হৃদয়হীন কেন?’
শ্রাবণ দুডালি নািময়ে সরসীর দিকে তাকিয়ে বিদ্রুপ হেসে বলল, ‘কোকিলাকে আমি ভালা পাই না। ওরা খুনি। কোকিলার কুহু শোনলে দপ করে আমার গোসার ঘরে আগুন জ্বলে। আমি কোকিল হতে চাইনি চেয়েছিলাম থোড়াই ভালোবাসা। তুমিই আমাকে নৈরাশ করেছিল। তোমার বান্ধবীরা তোমাকে উস্কানি দিয়েছিল। আজ আমি দেখতে এসেছি তুমি কত সুখে আছো?’
পলকে সরসীর মুখের ভাব বদলে গেল এবং রোষ্টসুরে বলল, ‘মন নেই তোমার বুকে একটা পাত্থর। তোমাকে পাথরমানব নামে আজ থেকে ডাকব। তোমার মাঝে দয়া মায়া এক রত্তি মমতা নেই।’
শ্রাবণ অট্টহাসি হেেস বলল, ‘অবলার আঁচল-বাতাসে বৈশাখ মাসের গরম কমে না লো ভ্রমরী।’
সরসী কপাল কুঁচকে তাকালে শ্রাবণ বিদ্রুপহেসে বলল, ‘কপাল কুঁচ করলে মাথায় ব্যথা হয়। বেশি চিন্তা কর না, দুশ্চিন্তায় ভোগবে। আমি শুধু দেখার জন্য এসেছিলাম। সুন্দর বাগান বানিয়েছো। মনের বাগানে কি আশাকলি ফুটেছে?’
সরসী রেগেমেগে বলল, ‘তোমার এমন আখিভঙ্গি আমি পছন্দ করি না। তুমি কয়রাকানা, রূপের আগুনে পুড়ে বল আমিতো রূপ দেখতে পাই না। অপরূপার রূপের জেল্লায় আমি কানা হয়ে গিয়েছি। ঢং কোথাকার! জানো! তুমি ধীরে ধীরে দানব হয়ে যাচ্ছে।’
‘তুমি আমাকে দাবন ডাকলে কেন?’
‘তুমি দানব নয়তো কি?’
‘আমি দানব হলে তুমি যে দানবী হবে তা কি তুমি জানো? কারণ, কোনো একদিন তুমি আমাকে ভালো বাসতে, আজ হয়তো রাগের মাথায় আমাকে ঘৃণা করার বৃথা চেষ্টা করছো।’
‘পাষাণ তুমি বড় কঠিন তোমার হৃদয়। কাটার আঘাতেও উঁফ বল না।’
‘আমার স্পর্শকাতর মনে তুমি এত ব্যথার পাথর ছোঁড়েছ যে আমি পাথর হয়ে গিয়েছি।’
‘লজ্জা হচ্ছে আজ খুব লজ্জা হচ্ছে। নিজেকে কি নামে ডাকা যায়, তা নিয়ে চিন্তা করছি।’
‘ভ্রমরী তুমি ভ্রমরী! জান তো নির্লজ্জের লজ্জা নেই।’
‘লজ্জিকাও হতে পারব না। আমাকে মুক্তি দাও দোহাই!’
‘নিষিদ্ধপল্লীতে যাই না আমি লজ্জায় লাল হয়ে চৌপথের মোড়ে পথ হারাই।’
শ্রাবণের কথা শোনে সরসী আবেগপ্রবণ হয়ে বলল,
তোমাকে ভুলতে চেয়ে আমি আজো ভুলতে পারিনি,
তোমাকে আমি আজো ভুলতে পারিনি,
ভুলতে পারিনি।
তুমি সদা আছো অন্তরে, গানে আমার মনে,
আমার কবিতায় আমার ছন্দে,
তুমি আছ সঙ্গী হয়ে,
তুমি আছ আমার ধ্যানে
তোমাকে আজো আমি ভুলতে পারিনি,
ভুলতে পারিনি তোমাকে আজো আমি ভুলতে পারিনি।

শ্রাবণ বিদ্রুপ হেসে বলল, ‘আগে তো তাইরে নাইরে করে নেচে মন দিয়েছিলে, এখন হায়রে কইরে করে কেঁদে কি লাভ হবে?’
সরসী বিচলিত হয়ে মাথা নেড়ে বলল,
আগুনে গলে মোম উজ্জল হয়ে অন্ধকারকে করে সমুজ্জল,
চর্বী থেকে মোমে উৎপত্তি এবং চার্বীরা জেল্লাময়ী হয় লাগালে কজ্জল,
আমি আজো অনুজ্জল।
শ্রাবণ ঠোঁট টিপে হেেস বলল, ‘জানো সরসী, লেম্পের আলোতে তিমির মোহতিমির হয়।’
সরসী ক্ষিপ্ত হয়ে বলল, ‘আজ আমি জ্বলে পুড়ে ছারখার হতে চাই। কামানলে আমাকে অলাত বানাও।’
শ্রাবণ অবজ্ঞার হাসি হেসে বলল, ‘বাতাসের শনশনে আমি মনের কথা শুনি, উত্তুরিতে প্রতিধ্বনিত হয় বিপদের ধ্বনি।’
‘তুমি চলে যাবে?’
‘চলে যাচ্ছে দিন থেমে থাকে না। ফাগুন এসে যায়, মনের আগুন নিভে না, মাঘের শীত সাত হায়নেও ফুরায় না।’
তোমার জন্য দোয়া করি।
‘কি দোয়া করবে?’
সরসী দীর্ঘশ্বাস ছেেড় বলল,
তব স্বপনে যেন স্বপ্নাচারিণী আসে,
কবিতা লিখার মন্ত্র যেন বলে যায় পাশে বসে,
ভোরে কবিতা পড়ার জন্য মম দণ্ড গুনবো আশে,
আজ যেন স্বপ্নচারিণী তব স্বপনে আসে।

‘ঠিকাছে।’ বলে শ্রাবণ পিছন হেঁটে ঘুরে পা বাড়াল।

How to make the wordpress font bigger!

Leave a comment

Look at the Photo and you can make it bigger!

‘মরমিয়া গো’

Leave a comment

মরমিয়া গো (গান)

মরমিয়া গো মরমিয়া গো!

মনের দুক্ক কইবার মত মুহুর্ত নাই গো,

বসয় হইছে দাঁতে নড়ছে চালাশিয়া ধরছে,

উঠতে বইতে কষ্ট লাগে, মনে থাকে না গো;

মরমিয়া গো মরমিয়া গো।

মনের দুক্ক মনের মাঝে নিম গাছ ওইছে

অমৃত অখন আমার মাঝে আর নাই গো,

মরমিয়া গো মরমিয়া গো

মিটা কথা তিতা লাগে মধু খাইলে ওয় না

ভালা করলে বুরা ওইযায় সুফল পাই না,

মরমিয়া গো মরমিয়া গো,

মনের কথা কইবার মত মুহুর্ত নাই গো।

অভিশাপ নয়,

1 Comment

সমাধান পেতেই হবে।

ভোট দেবার সময় এবং পরে আমরা এ কথা জিজ্ঞেস করি না যে, খাবার কি আমরা পাব না সব আপনারাই খাবেন?

বিদেশ থেকে লক্ষ কোটি টাকা সাহায্য দেওয়া হয়। ক্ষমতায় যারা আছে তাদের ব্যাংকের হীসাব তো সবার জানা, তাহলে দেশে এই হাহাকার কেন?

শিশু শ্রম, বৃদ্ধ শ্রম; নারী অধিকার নিয়ে দলাদলি লাটালাটি হয়। ক্ষমতায় যাবার জন্য হতবোমা ফুটানো হয়। লগি বৈটা নিয়ে মিছিল করে মানুষ খুন করা হয়, এ সবের কারণ তো একটাই আর তা হল টাকা! টাকায় কার ছবি থাকবে, কে দেশ স্বাধীন করল!

আরে বাবা দেশ তো আমাদের, আমরাই জান রক্ত মান দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা গরিব এবং অশিক্ষিত তাই সব কিছু বুঝি না। পেটে যখন ভুখ লাগে তখন চারটা ভাত চাই, থোড়া সালন চাই; গরম বা ঠাণ্ডায় কিছু আসে যায় না। তা কেন যে আমরা বুঝি না? হায় মাতম করে নিজেরাই বজ্রাহত হই, তাদের জন্য দোয়া করে নিজেরাই ভাগ্যহত হই; কিন্তু কেন!? মানবতার জন্য! কিন্তু ওরাতো মানবতার অর্থ কি জানে না, খিদা ওরা কখনো অনুভব করে না। বেমার অসুখ কি ওরা কখনো অভিজ্ঞতা করেনি। হুট করে বিদেশ চলে যায়।

কিন্তু আমরা!

আমরা যারা দিন রাত মাথার ঘাম পায়ে ফেলে গায়ে খেঁটে থালায় চারটা ভাত এবং থোড়া সালন পাই না, তারাই দেশ স্বাধীন করেছি; তারাই ভোট দিয়ে তাদেরকে ক্ষমাতায় দিয়েছি।

কেন!?

শুধু থোড়াই সুখের জন্য, চারটা ভাত এবং থোড়া সালনের জন্য।

নাকি উপোস মরে দোজখে যাবার জন্য?

হায়রে পুড়া কপাল, হায়রে দারুন পেট!!!

থোড়াই সুখ এবং চারটা ভাতও পাতে পড়ে না।

ইয়া খোদা তুমি তাদেরকে হিদায়াত দাও, না হয় ধ্বংস করো ওদেরকে যারা আমাদের সাথে বার বার প্রতারনা করছে। আমিন।

Older Entries

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.