সুতনুকায়া

কোন এক বিকালে ডেউয়া গাছের পাশে দাঁড়িয়ে বিনিময় হয়েছিল হিয়া,

কাচা ডেউয়া খেয়ে, চুকার জ্বালায় শিউরে উঠলে মুচকি হেসেছিল বঁধুয়া,

বিমনা মন আজ উদাস বিবাগী আমি পড়াঘরে একা বসে সামনে তেপায়া।

মাটিরপ্রদীপ হাতে ধারিতে বসে জেলেনি, ডিঙি নিয়ে গভীর জলে গিয়েছে জেলিয়া,

জেলেনির সমব্যথী হতে দেখে জোটেবুড়ি মুখ ভেংচি দিলে নাম দিয়েছিলাম জটিয়া,

হাতে পাকা ডেউয়া দেখে বলেছিল পেটে জঠরজ্বালা দু দানা দিয়ে জানটা জিয়া।

বাতাসে বনফুলের সুবাস ধেয়ানে চিন্তার ধূম্রজাল ধোঁয়া ধোঁয়া,

মাঘের রাতে একা ঘুম আসেনা, বিরহানল যায়না সওয়া,

শীতের দাপটে মন থরহরি করে বলে চাই বঁধুয়ার নরম হাতের ছোঁয়া।

জোয়ারি দুম্বল নৈসর্গে, বসন্তোৎসবে ঠনঠনিয়া বাজায় ঢাকের বাঁয়া,

হেলে দুলে কামিনী নাচে তালে তালে তবলা বাজায় তবলিয়া,

উদাস নয়ন প্রাণবন্ত হল চাঁদের আলোতে দেখে বধূর তনুকায়া।

অসমাপ্ত কবিতা ©

বৃষ্টিতে নাকি বিষ আছে, বাষ্পতে নাকি শিলা,
জল নাকি বিষাক্ত হচ্ছে, বাতাস নাকি দূষিত,
মানুষ কৃত্রিম হাসি হাসতে শিখেছে,
ধনি সুন্দর মানুষরা মনে লোভ হিংসা পোষে,…

অসমাপ্ত

দিনকে রাত রাতকে দিন করে কবিতা লিখেছিল এক হতভাগা কবি
কবির কবিতাকে নিয়ে লেখা লিখি করে অন্য লোক হল কোটিপতি,
কবি কবিতাই লিখতে আছে নিরবধি
একদা কবিতারা হাত তালি দিয়ে বলল কবি তুমি অত বোকা কেন?

প্রেমে সৃজন সভ্যতা বিস্তার লাভে জীবের অন্তঃকরণে হয় ধর্মের প্রচলন,
সত্যকর্মে হবে জীবে পূণ্যের উদ্দীপন শুধু আমি জ্ঞানে অচেতন।
নবীদের জীবন আজীবন প্রভু জানি চিরণিজন্তন একদা মরণ হবে সংবরণ।
জলে জীবন স্থলে জীবন মহাশূন্যে আছে জীবন, এখানেও জীবন,
সাধারণ মানবের প্রয়োজনে জীবন হয় সমাজ যাপনে আদর্শের অনুকরণ।
সাধনে বযন অবহেলায় অনুশোচনা করমে ফলন স্মরণে বিরহন,
বেশবরনে লজ্জার নিবারণ অশ্লীলতায় সভ্যতার হয় অবমানন।
জীবে প্রভু আছেন জাগন স্বার্থে রিষ্টির হয় আগমন নিঃস্বার্থে জানি শুধু ভোগন।
শমনে মরণ কবরে কাপন শামশানে জ্বলন নরকে তাপন স্বর্গে থাকবে আমরণ,
জীবন অনন্ত নয় একদা ধ্বংস হবে এই ভুবন মহাবিচারের দিন করবেই আগমন।

নারী যদি নদী হত তা হলে কি হত?

মা নদী হলে প্রাণ ভরে জল পান করে তৃপ্ত হতাম,
দাদী নানী নদী হলে দাদা আর নানার বগলে বসে বড়শি বাইতাম,
স্ত্রী নদী হলে মনানন্দে সাঁতরিয়ে গোসল করতাম,
প্রিয়তমা নদী হলে কালাপানিতে ডুবে মরতাম,
সুন্দরী নায়িকা নদী হলে নির্ঘাত অতৃষ্ণায় ভোগতাম।

Next Page »