ঐ দেখ শকুন!
ভাদ্রের খড়ায় মাঠ ফাটেনি,
দেশে মড়ক আসেনি,
তবে বাতাসে বুক ফাটা আর্তনাদ কেন?
তবে কি খড়ার বদলে হাহাকার শুরু হবে?
আমি জানি না।
হয়তো আবার দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে,
তাই কি শকুনরা উড়ছে?
হয়তো, ঐ দেখ শকুন!
উড়াল শকুন দেখলে আমার ভয় হয়,
ভয়ে আমার বুক কাঁপছে, কলিজা শুকাচ্ছে।
কল্পান্ত শুরু হচ্ছে নাকি?
কেউ জানলে বল! শকুনরা উড়ছে কেন?
আজ শবরীর শিকারে যায়নি,
গোয়ালে গরু মরেনি,
মড়ি কোথাও নেই,
তাহলে শকুনরা কি নিয়ে টানাটানি করে,
ঐ দেখ, ঐ দেখ শকুন দেখা যায়,
আকাশে উড়াল শকুনের পাল দেখতে পাচ্ছি।
ঔ দেখ! রোগজীর্ণ মায়ের কোলে আঁতুড়ের শিশু কাঁদছে,
আমি ওর কান্না শুনতে চাই না।
কেউ কিছু বল!
মনানন্দে ডানা মেলে শকুনরা উড়ছে কেন?
দোহাই! কেউ কিছু বল,
চারপাশে হায় হায় মাতম কেন?
গৃহস্থের গৃহে চাউল নেই,
গোলাদারের গোলায় ধান আছে,
কুঠিয়ালরা কাঁচামাল মজুত করছে,
দূর থেকে শুধু দেখি,
আমরা কিছু কিনতে পারি না,
বাজারের আনাজে গলাকাটা দাম,
পুঁজিবাজরা বাজারে আগুন লাগিয়েছে,
ঢিল ছুঁড়ে শকুনদেরকে মার!
ঐ দেখ শকুন! নির্বিঘ্নে শকুনরা উড়ছে।
অনাহরে গরীবরা মরছে,
ধুঁকে ধুঁকে আরো মরব,
ধীরে ধীরে দেশ উজাড় হবে।
পানিতে জীবাণু!
দিনানুদিন বাতাস দুষিত হচ্ছে,
ঐ দেখ, শকুনরা ধেয়ে আসছে,
বাঁচতে হলে শকুনকে মার!
কি করি, কোথায় যাই?
চারপাশে শকুনরা ওৎ পেতে বসে আছে,
টাকার লোভ দেখিয়ে হাতে হাতবোমা দেয়,
তাই কেউ ফুলঝুড়ি হাতে নেয় না,
পটকার ভেতর রং-মশলা ভরে বোমাবাজি করে,
মনোউল্লাসে বোমা ফোটায় মস্তানরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হাটে।
সবাই মরণাভিলাষী,
মরবে জানে তবুও মারতে চায়,
হিংসুটে মনে তামারবিষ, মানুষ নির্দয় হচ্ছে,
তবে কোনো এক কালে, মানুষের মনে ভালোবাসা ছিল,
চরকিতে ফানুস ঘুরত,
তারাবাতি জ্বলত আকাশে,
কূপ থকে জল তোলার জন্য বোমা ব্যবহৃত হত,
এখন বোমা ছোড়াছুড়ি হয় আতশবাজি,
পথের পাশে মৃতদেহ পড়ে থাকে,
নিজেকে নিয়ে সবাই মহা ব্যস্ত, মনে তাড়া তাঁইশ,
শবদাহন করার জন্য বাসি লাশে কেউ মুখাগ্নি দেয় না,
নাভিস্নান দিয়ে মুর্দাকে কবর দিতে চায় না,
অবহেলা দেখে বোমকে আকাশে তাকিয়ে দেখি শকুন,
বাতাসে মানুষ মরার খবর পেয়ে শকুনরা এসেছে,
ঐ দেখ শকুন!
শকুনরা অর্ধমৃতকে ছিঁড়েছিলে খাচ্ছে,
টাকার কুমিররা সব লুটেপুটে নিচ্ছে,
আহারে, অনাহারে গরীবরা অকালে মরবে,
শকুন শকুনিরা শত মায়ের বুক খালি করবে,
ইস্, বাসরে সূর্যা বালবিধবা হবে।
তাই কি নীল আকাশে শকুনের পাল উড়ছে?
