এক বুক আশা নিয়ে একাত্তারে যুদ্ধ করেছিলেন বীর যোদ্ধা এখন বাহাত্তর বছরের বুড়া।
মনের আশা মনেই রইল চোখের স্বপ্ন ভাদ্রের মেঘের মত উবে গেল, ভিটা বাড়ি পুড়াবাড়ি হইল, হালের দামড়া পড়ে মরল খড়ায় ক্ষেতের ফসল পুড়ল পেটের লাগি অলি গলি দিতে হয় ধন্যা এখন ধুকাবাজরা তাঁকে করে তাড়া।
এক বুক আশা নিয়ে একাত্তারে যুদ্ধ করেছিলেন বীর যোদ্ধা এখন বাহাত্তর বছরের বুড়া।
সাদা কউতর ডানা মেলে উড়ে না আর আকাশে, ডাহুক ডাহুকি এখন আর ডাকে না হাওরে ধান নেই মাছ নেই, লজ্জায় মরতে চায় দোয়েল শাপলা আর ফুটতে চায় না, কেয়াবনে টোনাটুনি বসে থাকে নীরব যোদ্ধার মনে ক্ষীন আশা, চোখে জলের ধারা।
এক বুক আশা নিয়ে একাত্তারে যুদ্ধ করেছিলেন বীর যোদ্ধা এখন বাহাত্তর বছরের বুড়া।
প্রেম ভালোবাসা মায়া টান নেই মনে লজ্জাসংকোচহীন নারী অনবগুণ্ঠিত হচ্ছে ভ্রূণহন্তা, ভণ্ডবাবারা ধান্দাবাজি করে ধর্মব্যবসায়িরা টাকার কুমির হয়ে যায় এক রাতে, আরেক দল ধর্মান্ধ ধর্মশাস্ত্র পড়ে না, বলা কথা শোনে ধর্মগুরু হয়ে সহয সরল মানুষকে ঠকায়, বিপাকে সাধারণ জনতা ঠগের বাজারে ঠগিরা উল্লাস করে খালি কাঠগড়া।
এক বুক আশা নিয়ে একাত্তারে যুদ্ধ করেছিলেন বীর যোদ্ধা এখন বাহাত্তর বছরের বুড়া।
হাতে পায়ে ধরে ভোট ভিক্ষা করে রাজা রানী হয় ওরা নির্বাচিত হয়ে, খুনি আজাকাল আইনের রাজা বিধি বিধান গঠনকারী, বিধানসভা অধ্যাদেশ সবাই আছে বিধিবদ্ধ আইন ওরা মানে না বিধায় অসহায় হাভাতের হাতে হাতকড়া।
এক বুক আশা নিয়ে একাত্তারে যুদ্ধ করেছিলেন বীর যোদ্ধা এখন বাহাত্তর বছরের বুড়া।
মেয়ে বিয়ে দিতে হবে, বরের বাবা লাখ টাকা চায়, ছেলে বিয়ে করে পর হয়েছে, বীরাঙ্গনার কবরে কেউ আর ফুল দেয় না, ফাগুনের আগুনে এখন আর কারু মনে ভাষা আর দেশপ্রেমের মশাল জ্বলে না এক একুশ আর ষোলো তারিখে ইলিশ পান্তা খেয়ে প্রভাতফেরির নামে উৎসব করে ওরা।
এক বুক আশা নিয়ে একাত্তারে যুদ্ধ করেছিলেন বীর যোদ্ধা এখন বাহাত্তর বছরের বুড়া।