
মন চায় দূর বহু দূর অজানায় হেটে যাই,
হেতায় আপন ধ্যানে সবাই ধ্যানী।
বিমনা মন চনমনে হতে চায়,
কোথায় যাব আমি না জানি।
নিঃসঙ্গতা তিক্ত হয়ে বলে নীরবতা যখন পছন্দ,
যাও চল যাও হিমালয়ের দক্ষিণের হৈম-বতে,
পূর্বদিনের দুধে তৈরি নবনীত ঘি,
হৈয়ঙ্গ-বীন দিয়ে ভুনে খিচুড়ি খাবে, হের-ফের না হবে।
হেরোয়িন লাগবেনা প্র্রেমের নেশা মাদকের চেয়ে বেশী নিসাক্ত,
রাত জেগে কেঁদে নিষিক্ত নেত্রপল্লব, বসন ক্ষরিত।
আপাতদৃষ্টিতে নয়নের মণিতে প্রবেশ করে অন্তর দেখেছিলে,
মুচকি হেসে পিছু হেটে বিদায়ের কালে,
ডান হাতের আঁজলায় চুমু দিয়ে বাতাসে দিয়েছিলে রুমাল উড়িয়ে,
সোনার পরিমাণ ষোলো মাষা নিষ্কে ক্রয় করেছিলাম সেই রুমাল,
তোমার অঙ্গ সুরভিতে সৌরভিত হবারাশে।
যৌবন স্বাধ পাবার আশে রুমাল শুঁকে শিহরিত হয়েছিলাম পুলকিত,
নিশা রাতে নিশাদানের প্রবল ইচ্ছা মনে,
গৃহ মোর নিষ্কম্প প্রদীপালোক,
মন অচঞ্চল, কাঙ্ক্ষা দৃঢ় আমি অটল;
মনস্কাম পুরাব যবে আমার মনস্কামনা পুরবে।
দিনান্তে হায়ন গত হচ্ছে, আমি আজো অপেক্ষামাণ,
মুচকি হেসে গোলাপ হাতে দিয়ে কণ্ঠলগ্ন হয়েছিলে,
মদিরা তোমার মদিরাক্ষীতে লালসা ছিল ছলনা,
বিতনু তুমি রূপজেল্লায় উজ্জ্বল ছিলে,
সুতনে মধু-বনি ছিল অধরে বারুণী,
লিলাচঞ্চল বিচঞ্চল হয়েছিল অঙ্গ ছুঁয়ে তোমার যৌবন নির্যাসে।
শুভলগ্নে বাহু ডোরে বেঁধেছিলাম,
সঙ্গ দিয়ে নিঃসঙ্গতা দূর করেছিলে নির্জনে,
কামকলায় মত্ত দেখে দিনমণী থকমে ছিল, দিনের আকাশে চাঁদনী লুকিয়েছিল;
পুলকিত হয়েছিলাম দুজন, দুজনার রক্ত কনায় কাম ঢেউ জেগেছিল।
মনোজ্ঞ ছিলে তুমি, তোমার রূপ যৌবন ছিল মনোমুগ্ধকর;
আমি জানতামনা মনের ব্যাধি ছিল তোমার মাঝে মনো-মদ,
আমার মনো-রথে ছিল যথেচ্ছ গমনশক্তি,
পবিত্রতা কুলষিত করতে চাইনি বিধেয় আজ ব্যর্থ আমি নিষ্কর্ম,
দিনদিন নিষ্কর্মা হচ্ছি নিষণ্ণ বসে কল্পবৃক্ষ ছায়ে,
একা নয় নিশাচর আরো আছে।
ভোরের হাওয়া শন শন করে বলে গেল,
নিশাবসান হয়েছে, পাখিরা ভোরাই গান গাইছে।
ভোলা আমি বশীভূত,
তোমার মোনহর রূপ দেখে প্রভাবিত হয়েছিলাম,
প্রেমের মায়ায় ভুলিয়ে দিয়েছিলে ছেলেবেলা,
আজ সবই মনে হয় ভৌম,
প্রেম নয় যেন পঞ্চভূতের দ্বারা কৃত ভৌত কাণ্ড ছিল।
ভ্যাবাগঙ্গারাম সম আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে দাঁড়িয়ে আছি,
স্মৃতিভ্রংশ হতে চাই ভ্রংশিত, কিন্তু পারিনা;
প্রমাদ সব মিথ্যাজ্ঞান ছিল,
ভ্রমক্রমে আজ ভুল সংশোধন করতে চাই।
ভ্রমরী, তুমি ভ্রমরী কলিজায় কামড়ে বিষয়াসক্তি করেছ আমাকে বিষাক্ত,
আসক্ত আমি একান্ত অনুরক্ত,
মনে প্রবণতা, ভোগবাসনা, আসঙ্গ কাম্য অভিনিবেশ; আসত্তি।
তোমার অধর মধু নেশাযুক্ত প্রমত্তজনক রস,
পানান্তে আমি এখন খোঁয়াড়ি, নেশার ঘোর এখনও কাটেনি,
নেশাগ্রস্ত তন্ময় বিভোর, অভিভূত যেন স্বপ্নে ভোর,
প্রেমে মজা যেন নেশায় মজা,
তোমার চটকদার রূপে মন মজে হয়েছে মাতোয়ালা,
প্রমত্ত চিত্ত উল্লাসিত, বিহ্বল মনে আকুলতা;
মত্তাবস্হা দূর হচ্ছেনা, সদা মনে মথন;
বিরহ ছিল মথনদণ্ড, বিচ্ছেদে আশাসৈন্য হয়েছে মথিত,
মদালসা তুমি গর্বান্ধ ছিলে তাই আমি আজ মদোদ্ধত।