তনুকায়া
কোন এক বিকালে ডেউয়া গাছের পাশে দাঁড়িয়ে বিনিময় হয়েছিল হিয়া,
কাচা ডেউয়া খেয়ে, চুকার জ্বালায় শিউরে উঠলে মুচকি হেসেছিল বঁধুয়া,
বিমনা মন আজ উদাস বিবাগী আমি পড়াঘরে একা বসে সামনে তেপায়া।
মাটিরপ্রদীপ হাতে ধারিতে বসে জেলেনি, ডিঙি নিয়ে গভীর জলে গিয়েছে জেলিয়া,
জেলেনির সমব্যথী হতে দেখে জোটেবুড়ি মুখ ভেংচি দিলে নাম দিয়েছিলাম জটিয়া,
হাতে পাকা ডেউয়া দেখে বলেছিল পেটে জঠরজ্বালা দু দানা দিয়ে জানটা জিয়া।
বাতাসে বনফুলের সুবাস ধেয়ানে চিন্তার ধূম্রজাল ধোঁয়া ধোঁয়া,
মাঘের রাতে একা ঘুম আসেনা, বিরহানল যায়না সওয়া,
শীতের দাপটে মন থরহরি করে বলে চাই বঁধুয়ার নরম হাতের ছোঁয়া।
জোয়ারি দুম্বল নৈসর্গে, বসন্তোৎসবে ঠনঠনিয়া বাজায় ঢাকের বাঁয়া,
হেলে দুলে কামিনী নাচে তালে তালে তবলা বাজায় তবলিয়া,
উদাস নয়ন প্রাণবন্ত হল চাঁদের আলোতে দেখে বধূর তনুকায়া।



