“ধার্মিক”

ধর্ম এবং বিদ্বেষ শব্দে সন্ধিযোগ হলেও বাস্তবে তা কখনো সম্ভব নয়। কারণ ধর্ম শব্দের অর্থ হল ঈশ্বরোপাসনা পদ্ধতি, আচার-আচরণ ও পরকাল ইত্যাদি বিষয়ের নির্দেশ ও তত্ত্ব। পুণ্যকর্ম, সৎকর্ম, কর্তব্যকর্ম (ক্ষমা পরম ধর্ম)। অবশ্যপালনীয় কর্তব্য। বিদ্বেষ শব্দের অর্থ হল ঈর্ষা, হিংসা; শত্রুতা।

কাঠখড় পুড়িয়ে কঠোর সাধনা করে মহাসাধক হতে পারলে, আগুনের উপর পানি রাখা যায় এবং আগুন নিভে না। ঘাটের মড়াকে উজ্জীবিত করা যায় তন্ত্রমন্ত্রে। কিন্তু এমন কোনো পাদ্ধতি নেই যা দিয়ে ধর্ম এবং বিদ্বেষে মধ্যে যোগসিদ্ধি করা যায়। যোগাসনে বসে  যোগসাধনার্থ করার জন্য ধর্ম এবং বিদ্বেষের মাঝে যোগসাধন করতে চাইলে নিজেই ধর্ম এবং যোগভ্রষ্ট হতে হয়,  কারণ ধর্মে ছিদ্রান্বেষণ করার সুযোগ নেই এবং ছিদ্রান্বেষীরা শপ্ত! ধর্ম কোনো ছিনিমিনি খেলা নয়। বিদ্বেষ সব সময় শান্তিকে নাশ করে। শুরু থেকেই আদম সন্তানের মাঝে ধর্ম এবং বিদ্বেষের ঠাণ্ডা লড়াই চলছে। ধর্মকর্মে ব্রতী সত্য ধার্মিক, বিদুষী এবং  বিদ্বজ্জন হতে পারে কিন্তু দ্বিষৎ অথবা বিদ্বিষ্ট হতে পারে না। কারণ, হিংসা পর-হিংসা বিদ্বেষ ধর্মে নিষিদ্ধ এবং বিদ্বেষী শব্দের অর্থ অন্য বর্ণ ধর্ম এবং জাতির প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন হাবভাব।

কুসংস্কার ধর্মবিশ্বাসের অংশ নয় এবং ধর্মবিরুদ্ধ অথবা পাপজনক কাজ বা আচরণে কেউ স্বর্গে যেতে পারবে না। ধর্মে বিদ্বেষী এবং বকবেশধারী পূণ্যহীনরা নরকে যাবে। স্বর্গ শুধু মাত্র পুণ্যবানদের জন্য।

সত্য ধামর্িক এবং সত্য ঈশ্বরবিশ্বাসীর জন্য বিধর্মা একটা অপশব্দ, কারণ ধামর্িকরা অন্য ধর্ম নিয়ে মাথা ঘামায় না এবং বিধর্মা শব্দের অর্থ হলো, বিধর্মী,  ধর্মহীন, ধর্মরহিত, ধর্মবিরোধী অথবা অন্য ধর্মাবলম্বী।

ধামর্িকরা উপনালয় ধ্বংস করে না, করতে পারে না। কারণ উপসনালয়ে ঈশ্বর থাকেন। মানুষ যখন নিজের ঘর সংস্যার দেশ এবং ভাষাকে সুরক্ষা করার জন্য মরণপণ সংগ্রাম করে তখন সেই মানুষ কখনো শ্রষ্টার ঘর ধ্বংস করতে পারবে না। পশুরাও বনে আগুন লাগায় না, তাহলে উপাসনালে যারা আগুন লাগায় তাদেরকেতো নরপশুও বলা যাবে না। তাহলে তাদেরকে কি বলে ডাকব? ইয়া আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করো! ক্ষমা এবং প্রেম তুমিই আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছ।