ষোলআনা

অহর্নিশি আমারে কাঁদিয়ে তোমরা কি আনন্দ পাও?
দুঃখকে আমি ভালো বাসি জানি সুখ তোমরা চাও।
মন বিমনা হয়ে উড়তে চায় ময়ূরসিংহাসন হয় দখিনা বাও,
সুখপাখিকে দেখি মিমর্ির চোখে হায় সুখ হয়ে যায় উধাও।
ষোলআনা দিলাম গো পেটরা খুলে তবু বলে আরো দাও,
আমি অখন পর হতে চাই গো আমার লাগি বাসর সাজাও।

 

“বিবাগী”

মনে আনচান আমার চোখে লেগছে রূপের নেশা,
মাতাল হয়েছিলাম আমি অধরমধু পান করে,
বধু তুই কইলো মধুবনে আয় মনের কথা বলব কানে কানে।

তোর হাসির ছন্দ তানে, বাতাস হবে বিবাগী,
তোর রূপের ঝলকে সূর্য লোকাবে লাজে,
তোর অঙ্গ সুবাসে ফুল ফুটবে বিজন কাননে।
বধু তুই কইলো মধুবনে আয় মনের কথা বলব কানে কানে।

পূবালী বাতাসে শিমুলের তুলা ভেসে পশ্চিমে যায়,
আমার চটফটানি দেখে চাঁদ হাসে আকাশে,
তোর মনের খবর শুনার জন‍্য উচাটন আমার মনে।
বধু তুই কইলো মধুবনে আয় মনের কথা বলব কানে কানে।

অপেক্ষমাণ

মানসী তুমি আজ আমার পর, সেই কবে তোমাকে বিদায় বলেছিলাম,
দিনটার কথা স্মরণ নেই, আকাশে হয়তো মেঘ জমেছিল ঝেপে ঝড়ার জন‍্য,
কোনো এক বাদল দিনে, দু হাত মেলে তুমি বৃষ্টিস্নাত করেছিলে,
সে দিন আমার খুশিরা ডানা মেলেছিল আনন্দে, নন্দে তুমি নন্দিত হয়েছিলে,
সামনে দাঁড়িয়ে, চোখে চোখ রেখে আমি তোমাকে ভালোবাসি বলেছিলাম।
তারপর, কোনো এক সুখবাসরে তোমার বিরহে আমি বিমনা হয়েছিলাম,
কবি কবি ভাব মনে ছিল, খাতা কলম নিয়ে আঁকিবাঁকি করছিলাম,
মন ভালো ছিল না, তোমাকে কাছে পাবার জন‍্য মন আনচান আনচান করছিল,
তুমি পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলে, আমি তা খেয়াল করিনি,
হঠাৎ খিলখিল করে হেসে বলেছিলে,
হে কবি! তুমি তো খুব সুন্দর কবিতা লিখো, আমার জন‍্য কি একটা কবিতা লিখবে?
চমকে উঠে ঘুরে তোমাকে দেখে মৃদু হেসে বলেছিলাম,
সাগরের পানি ফুরালে নয়ন জলে কালি বানিয়ে কবিতা লিখব, তোমাকে কথা দিলাম।
সজনী, আমি তোমাকে ভালোবাসি তোমার আনন্দই আমার কাম‍্য,
আমি আজো অপেক্ষমাণ, তোমাকে আনন্দ দেবার জন‍্য লিখছি কবিতা লিখেছিলাম।

Thursday, 29 July 2010

“বিনিদ্র”

সূর্য ডুবতে শুরু করেছে,
মনে ভয় আমার বুক কাঁপছে আশঙ্কায়,
কে জানে কি হবে আজ রাতের আঁধারে?
বীথিবাতি নিজে জ্বলে পথ আলোকিত করছে, জ্বলবে,
পা কাঁপছে, দেহে থরহরি,
জেবে টাকা নেই, মনে কামনা, আশা আহ্লাদ সাধও আছে,
ভানুমতী খিলখিল করে হাসে আর সবার চোখে ভেলকি লাগায়।
জেল্লায় উজ্জ্বল জেল্লাময়ী তন্ময় আপন লীলাতে,
অমাবস্যায় রূপের কিরণে রাতকানা হয়েছি,
লোভ লালসার চক্রবাঁকে পথ হারিয়ে পাপের পথে পথিক হয়ে হাঁটছি।
কত দিন যে ভুল পথে একা হেঁটেছি, তার ইয়ত্তা নেই,
কত দূর এসেছি জানি না, ফেরার পথটা চেনা পথের ভিড়ে হারিয়েছে,
গন্তব্য কোথায় জানি না, এখন আর পথ খুঁজি না।
আমার কাহিল হাবভাব দেখে চৌরাস্তার মোড়ে রাজপথ লুকায়,
হতাশ হয়েও আশায় পথ চলি, গৃহী আমি গৃহে ফিরতে চাই,
রাতে দিবাস্বপ্ন দেখি কল্পবৃক্ষ ছায়ে বসে ভাবি,
একা জাগি বিনিদ্র,
নির্বোধ তাই চিন্তক হতে চাই কিন্তু পারি না,
বুদ্ধিতে বৃহস্পতি আসে না,
ভাবাবেগে ভেবে সব হয় ভাবান্তর।

Monday, 26 July 2010

Blackbird

https://i2.wp.com/4.bp.blogspot.com/_uFADYx1K9ps/Rl1caQOXoII/AAAAAAAAAj4/aTA_Kkt-sBA/s320/koel.jpg

৫/৩/৯৫
কুহু কুহু ডাক শুনাইয়া
ও কোকিলা তাপি মোর মনে তুই
দিসনারে জ্বালা।
তোর ডাক শুনিয়া
বিরহে প্রাণ বন্ধুয়ার বিচ্ছেদে
চিন্তিয়া ভাবিয়া
আমার দুধে আলতা সোনার কায়া
হইছেরে কালা
কুহু কুহু ধুনে রুদে
ডাকিস না তোই আর
ও নিদারুন কোকিলা।
নিমের ডালে নাই কিরে নিম গুটা
আমার মন কাননে
পুষ্প কলির হয়নিরে ফুটা
চৈত্রের অবেলা
কাঁদিস না তোই আর ও কোকিলা।।