হুজুগে আমরা হক্কল বৈতালী!

হুজুগে আমরা হক্কল বৈতালী,

বাকিবকেয়ায় রমরমা ভাব ভূতের বেগার ঠেলি,

ভেলকিবাজি ভালা লাগে ধাপ্পাবাজের লগে গলাগলি,

হাচা কথা হুনলে আমরার কানো মারে তালি,

হুজুগে আমরা হক্কল বৈতালী।

কোনতা করার বল নাই করি গালা গালি,

লাটর সামনে পড়লে আমরা দুইও হাত মলি,

তেলাল মাথাত তেল দেই হক্কলটিনতর ট্যাঁকখালি।

কামে কাজে বড়লোকি মেজাজ দেখাই করি ফুটানি,

নিজর পিন্ন কাপড় নাই পরর তেনাত ধইরা টানি,

কাম কাজ ভালা লাগে না আমরা হারা জীবন করি টানাটানি,

নেতা ওইবার লাগি মারামারি আমরার মাঝে খালি দলাদলি।

নিজে করলে হক্কলতা ঠিক অন্যে করলে ভুল ধরি,

ভালা করতা পারি না মন্দ করার লাগি আগে থাকি,

নিজর থালে রউর কল্লা না পাইলে করি ফুলা ফুলি,

কেউর থোড়া ভালা ওইলে নাক উঁচা করি আমরা দিন রাইত জ্বলি।

বন্ধু দোয়া করি!

হাভাতে আমি যে কাঙ্গাল!

কত্ত দিন হয় বাংলার মাটিতে বসে নুন দিয়ে পান্তা খাইনি,

কাঁঠল কিনার টাকা ছিল না, কত যে টানা টানি,

জন্মের পর পরই মামা মাবুদের বাড়ি চলে গিয়েছেন,

নানা নানিও অখন আর নেই, তাই আমি মামার বাড়ি যাই নি।

বন্ধু, মাই কেমন আছে রে?

আর হ্যাঁ তোর টুনির খবর কি,

আমার রাজকুমারীরা তো অনেক বড় হয়ে গেছে, তাই না,

ভালো বর খোঁজবি, টাকাআলা দরকার নেই,

আল্লাহওয়ালা দেখবি, যে অধিকার বুঝে,

রাজকুমারিরা হবে রানী।

বৈশাখ মাসে ভাড়ালে ধান তুলে দামান্দকে দেখতে যাব,

গুরের হাড়া আর বারজাতি পিঠা নিয়ে যাব,

বেয়াইনের সাথে করব খুনসুটি।

বেয়াই, আড় চোখে তাকাবে,

হুক্কায় তামাক টিকি ভরে গুড়গুড়ি ডাকাব আর বলব,

কি হে দাদা, জ্বলেনি?

নাতনী খিল খিল করে হেসে বলবে,

আমাকে লুকাও গো নানী।

বন্ধু! দিবাস্বপ্ন বাস্তব হবে তো!

আমি না জানি!

ইয়া মাওলা, মোদেরে করো সুখি।

বন্ধু দোয়া করি, সদা সুস্থ থাক হাসি খুশি!

বন্ধু যাবি!?

 

আয়, চল ভানুমতিরে একটু চেতাই গিয়ে,

অবলাটা মোরে ঝাড়ু দিয়ে দৌড়ানি দিছিল,

হেই কবে,

তুই তো তখন, হাতুড়ে ডাক্তারের বগলে ছিলে,

আমি যাইনি তোরে দেখতে,

আমি যে গাঁথনি সুঁই ডরাই।

আয়, কানাই মাস্টারের পড়ার ঘরে যাব।

পরিক্ষায় আমারে তিন নাম্বার কম দিয়েছিল,

বিধায় কমলা ৯ নাম্বারে নবম টপকিয়েছিল,

আমি হয়েছিলাম ৭৯।

চল, মুইনার মা’র ময়নাটা দেখি,

কত্ত দিন হয়, মরিচ দিয়ে ভাত মখাইনি,

পিঁজরা দুলাতে দুলাতে বলিনি, ময়না আল্লাহ ক!

চল, ক্ষেতের রাজআইলে বসে,

বড়ুই খেয়ে খেয়ে সাঁজের মায়া দেখব কুহক।

ঘৃণা!

ছোট কালে শোনেছিলাম 

দেশের নেতার মুখ দেখলে বহুত নেকি হয়।

বড় হয়ে জানলাম,

দেশের নেতা নেত্রীর মুখ দেখলে বমি আসে, 

ঘেণ্ণায় সাত কুল্লি করতে হয়। 

পেট আমালি কমনে না,

পোয়াতির মত চল্লিশ দিন লাগে।

ইয়াক!

১২ মাসে ১৩ বলি

ভাইজান, ও ভাইজান!

আমি মাটির গতরে মা বাংলা মাটি আছে।

আমি বাংলার অবলার নাড়ী কাটা ধন।

আমি যদি ম্যাঁও না ধারি তাইলে কে আর ধরব।

মোই কসম করেছি,

ওরা যেমতে আমাদেরকে ছাগল মেড়ার মত বলি দিচ্ছে

মান্নত করে আমিও তাই করব।

আমি বার মাসে ১৫ টা বলি দেব।

অখন কইবেন ২ বেশী কেন।

দুই ঈদও কুরবানি দেওয়া যায়।

তাইতো, হাত বোমা সবার হাতে দিতে হবে।

ক্লিনিক দেখলেই ছোঁড়ে মারার জন্য।

ক্লিনিক থেকে ডাক্তার নামক পিশাচরা টাকা পায়,

তাই সবাইকে বলে ক্লিনিকে যাও, আর নর বলি দাও!